Obiroto - খবর চলতেই থাকে
Obiroto

খবর চলতেই থাকে

Home দেশ রাজ্য বিদেশ বিনোদন খেলাধুলা শরীর স্বাস্থ্য টেক ফিচার গল্প
পার্সন অফ ইন্টারেস্ট, লাইফ সেভিং এ.আই. এবং এক ট্র্যাজিক হিরোর মহাকাব্য
13 May, 2026 1 মিনিট

পার্সন অফ ইন্টারেস্ট, লাইফ সেভিং এ.আই. এবং এক ট্র্যাজিক হিরোর মহাকাব্য

এডওয়ার্ড স্নোডেনের কথা মনে আছে? আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থা, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সি.এই.এ.এর এ্যানালিস্ট ছিলেন। তিনি হঠাৎ মিডিয়ার সামনে দাবী করলেন যে, ৯/১১ হামলার পর থেকে এই সি.আই.এ. প্রতিনিয়ত প্রতিটি নাগরিকের মেসেজ মেইল থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু পড়ছে। হাজার হাজার ক্যামেরা ব্যবহার করে নজর রাখছে নাগরিকদের ওপরে তথা বিশ্ববাসীর ওপরে। অগুনতি মাইক্রোফোনকে লিসেনিং ডিভাইসে পরিণত করে আমাদের প্রতিটা কথা শুনছে। মিডিয়া এই খবর প্রকাশ করা মাত্র চারিদিকে হইচই পড়ে যায়। সি.আই.এ. খানিকটা, ‘উই ক্যান নিদার কনফার্ম অর ডিনাই’ গোছের ভাব করে সমস্ত অভিযোগের ধুলো ঝেড়ে ফেলে।

এই কাজে গুপ্তচর সংস্থাসমূহর পার্টনার ইন ক্রাইম কিন্তু কোন মানুষ নয়। এ হল এ.আই. বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিভাবে সাহায্য করে সেটা জানার আগে আমাদের জানা উচিৎ এই সমস্ত ক্ষেত্রে এ.আই. কাজ করে কিভাবে?

ধরা যাক যে সেলফোন আপনি ব্যবহার করছেন সেই ফোনের এ.আই., প্রতিনিয়ত দেখছে আপনি কিভাবে কি কি জিনিস সার্চ করছেন, অনলাইনে ঠিক কোন অ্যাস্পেক্টে আপনি ডেটা কঞ্জিউম করছেন। ইউটিউবে কি দেখছেন কিম্বা, সামাজিক মাধ্যমে কি কি ফলো করছেন, এই সমস্ত কিছু দেখে, সেই এ.আই. মেশিন লার্নিঙের মাধ্যমে আপনার এই বিহেভোরিয়াল প্যাটার্নটা দেখে নিয়ে সেটা এ্যানালিসিস করে বুঝে নেবে আপনার আগ্রহ কিসে। তারপর সেই অনুযায়ি কনটেন্ট সে আপনার সামনে প্রতিনিয়ত মেলে ধরবে।

ঠিক এই কারণেই আপনি যখন কোন ই-কমার্স সাইটে গিয়ে ঘোরাঘুরি করে কোন প্রোডাক্ট ঘেঁটে দেখেন, তখন আপনার সামাজিক মাধ্যম খোলামাত্র আবার সেই প্রোডাক্টেরই বিজ্ঞাপন দেখতে পান। অথচ আপনি একবার খালি সেটা সার্চ করে দেখেছেন। ব্যস আপনার ফোনের এ.আই. আপনার বিহেভিয়ার দেখে, বিজ্ঞাপন সেট করে দিল। কিন্তু এক্ষেত্রে এই ডেটা এ্যানালিসিস এই অবধিই সীমাবদ্ধ। এবার কোন তৃতীয় ব্যক্তি যদি এই লুপের মধ্যে অনৈতিক ভাবে ঢুকে এসে আপনার প্রতিটি কাজের ওপরে নজর রাখে তখন কী হবে?

এই কি হবে বা কি হতে পারে? এই নিয়েই জোনাথন নোলান বানিয়ে ফেলেছেন মহাকাব্যিকসম একটি টিভি সিরিজ, নাম পার্সন অফ ইন্টারেস্ট। এই জোনাথান নোলান হলেন সম্পর্কে ক্রিস্টোফার নোলানের সহোদর। এই নোলান ব্রাদার্সের কিছু বিখ্যাত যৌথভাবে করা কাজ হল, মেমেন্টো কিম্বা দ্য প্রেস্টিজ। এছাড়াও অবশ্যই উল্লেখ করতে হয় ডার্ক নাইট ট্রিলজির কথা। সেই জোনাথন নোলান সৃষ্টি করলেন এমন এক গল্প, যা পাঁচটা সিসন ধরে দর্শককে প্ররদার সামনে থেকে নড়তে দেবেনা।

জোনাথন নোলান যখন ২০১১ সালে ‘পারসন অফ ইন্টারেস্ট’ শুরু করেছিলেন, তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা ব্যাপক নজরদারি (Mass Surveillance) আজকের মতো আলোচনার তুঙ্গে ছিল না। কিন্তু সিরিজটি আজ দেখলে মনে হয়, সিরিজের মূল ভিত্তি হলো ‘দ্য মেশিন’। ৯/১১ পরবর্তী সময়ে হ্যারল্ড ফিঞ্চ (মাইকেল এমারসন) নামক এক জিনিয়াস প্রোগ্রামার এমন একটি এআই সিস্টেম তৈরি করেন, যা সারা বিশ্বের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে আসন্ন সন্ত্রাসী হামলা বা অপরাধের পূর্বাভাস দিতে পারে। তবে সরকার কেবল ‘প্রাসঙ্গিক’ বা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অপরাধগুলো নিয়ে কাজ করে। অর্থাৎ যেক্ষেত্রে মাস ডেস্ট্র্যাকশানের আশঙ্কা থাকে কেবল মাত্র সেই সমস্ত অপরাধ রুখে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই মেশিন অন্যান্ন আসন্ন অপরাধ সম্পর্কেও আগাম আভাস পায়, সেগুলোর কি হবে? প্রতি রাতে, বারোটার সময়ে সেই তালিকা অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে ডিলিট হয়ে যাবে! বিবেক তাড়িত ফিঞ্চ সেই ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বা সাধারণ মানুষের অপরাধগুলো ঠেকাতে নিয়োগ করেন প্রাক্তন স্পেশাল ব্ল্যাক অপারেটিভ জন রিস-কে (জিম ক্যাভিজেল)। এই জুটির উদ্দেশ্য একটাই—অপরাধ ঘটার আগেই ভিকটিম বা অপরাধীকে খুঁজে বের করা, যাকে আইনের ভাষায় বলে ‘পার্সন অফ ইন্টারেস্ট’।

জোনাথন নোলান মানেই জটিল মনস্তত্ত্ব আর প্রযুক্তির মিশেল। ‘ডার্ক নাইট’ বা ‘ইন্টারস্টেলার’-এর লেখক হিসেবে তাঁর যে মুন্সিয়ানা, এখানেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সিরিজের শুরুতে একে কেবল একটি ‘ক্রাইম প্রসিডিউরাল’ মনে হলেও, ধীরে ধীরে এটি একটি উচ্চাভিলাষী সায়েন্স ফিকশন থ্রিলারে রূপ নেয়। বিশেষ করে সিজন ৩-এর পর থেকে যখন দ্বিতীয় একটি এআই ‘সামারিটান’ আবির্ভূত হয়, তখন গল্পটি দুই দেবতার লড়াইয়ের মতো মহাকাব্যিক হয়ে ওঠে

জন রিস চরিত্রে জিম ক্যাভিজেলের শান্ত অথচ বিধ্বংসী উপস্থিতি এবং হ্যারল্ড ফিঞ্চ হিসেবে মাইকেল এমারসনের বুদ্ধদীপ্ত অভিনয় সিরিজের প্রাণ। পার্শ্বচরিত্রে তারাজি পি. হেনসন (ডিটেকটিভ কার্টার), কেভিন চ্যাপম্যান (ফাসকো), অ্যামি অ্যাকার (রুট) এবং সারাহ শাহী (শ) সিরিজটিকে পূর্ণতা দিয়েছেন। বিশেষ

করে ‘রুট’ চরিত্রটি এ.আ.এর প্রতি মানুষের অন্ধ ভক্তি ও জটিল সম্পর্ককে অসামান্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছে

পারসন অফ ইন্টারেস্ট’ কেবল মারপিট বা গোয়েন্দা কাহিনী নয়; এটি আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Privacy) ও নিরাপত্তার দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই সিরিজে রামিন জাওয়াদিব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং টানটান চিত্রনাট্য আপনাকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বসিয়ে রাখবেআর বাঙালিতো নানা ঋতুতে ‘নোলান’গুড় খেয়েছে আগেও, তাই এই ভরা গরমে, সারাদিন বাদে বাড়ি ফিরে, এবার নাহয় নেটফ্লিক্সে এই ‘নোলান’গুড় একবার নাহয় চেখেই দেখলেন।

সিদ্ধার্থ মজুমদার,
সাংবাদিকতা এবং গণজ্ঞাপন বিভাগ, ২য় বর্ষ
নেতাজী সুভাষ মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়

পার্সন অফ ইন্টারেস্ট, একটি ফিকশান টেলিভিশন থ্রিলার ড্রামা। জমজমাট গল্প আর টানটান টুইস্ট এবং এ্যাকশান প্যাকেজে মোড়া বিঞ্জ এবং মাস্ট ওয়াচ! এখন দেখতে পারেন নেটফ্লিক্সে।

ট্যাগ: #Mobile App
ফেসবুকে শেয়ার করুন টুইটারে শেয়ার করুন