প্রাচীন দানাশস্যে নতুন ভরসা
অঙ্কিতা দত্ত- জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও স্বাস্থ্যের প্রয়োজনেই বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে আমূল বদল দেখা যাচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে আধুনিক মানুষের পছন্দের তালিকায় দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে ‘মিলেট’— জোয়ার, বাজরা, রাগির মতো প্রাচীন দানাশস্য। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি শুধু ডায়েট সচেতনতার ফ্যাশন নয়; ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানো এবং সুস্থ, মেদহীন শরীর গঠনের লড়াইয়ে মিলেট এখন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ‘সুপারফুড’।
সাম্প্রতিক বাজার সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, মধ্যবিত্তের রান্নাঘর থেকে শহরের নামী রেস্তরাঁ— সর্বত্রই বাড়ছে মিলেটের দাপট। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মিলেট পাস্তা, মিলেট সালাদ কিংবা রাগির প্যানকেকের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। তবে তার নেপথ্যে রয়েছে সুস্থ থাকার তাগিদ। পুষ্টিবিদদের দাবি, মিলেটে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নেয়। চিকিৎসকদের মতে, গ্লুটেন-মুক্ত হওয়ায় এটি যেমন হজমশক্তি উন্নত করে, তেমনই দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রেখে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। বিশ্ব বাজারেও তার প্রতিফলন স্পষ্ট। গত দু’বছরে মিলেটের চাহিদা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
এক সময় ভারতের প্রান্তিক মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল মিলেট। তবে সবুজ বিপ্লবের পরে ধান ও গমের ভিড়ে সেই দানাশস্য অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। এখন আবার তার স্বাস্থ্যগুণ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক রিপোর্টে সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য মিলেট চাষ ও ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই শস্য খুব কম জলেই চাষ করা সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্কটের সময়ে যা কৃষিক্ষেত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
