Obiroto - খবর চলতেই থাকে
Obiroto

খবর চলতেই থাকে

Home দেশ রাজ্য বিদেশ বিনোদন খেলাধুলা শরীর স্বাস্থ্য টেক ফিচার গল্প
নদী পেরিয়েই মাতৃত্বের লড়াই
16 May, 2026 1 মিনিট

নদী পেরিয়েই মাতৃত্বের লড়াই

প্রতিবেদন: বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস, মালদা- গঙ্গা ও ফুলহর নদীর মাঝখানে নদীবেষ্টিত ভুতনি দ্বীপ। বর্ষা এলেই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মালদার এই প্রত্যন্ত এলাকা। তার সরাসরি প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় গর্ভবতী মায়েদের। নিরাপদ সন্তান জন্মদান এখনও ভুতনির বহু পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

ভুতনি দ্বীপের অধিকাংশ মানুষই কৃষিজীবী ও আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া। এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও উন্নত মাতৃসেবার জন্য নির্ভর করতে হয় ব্লক বা জেলা হাসপাতালের উপর। জরুরি পরিস্থিতিতে গর্ভবতী মহিলাদের নৌকায় নদী পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে হয়। বর্ষাকালে সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাকরণ, পুষ্টি সংক্রান্ত পরামর্শ ও সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর কাজও করছেন তাঁরা।

মাতৃসুরক্ষায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্প কার্যকর হয়েছে এলাকায়। ‘প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান’-এর আওতায় প্রতি মাসের ৯ তারিখ গর্ভবতী মহিলাদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ মায়েদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

অন্য দিকে, ‘জননী সুরক্ষা যোজনা’র মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। প্রসব করালে মিলছে আর্থিক সহায়তাও। রাজ্য সরকারের ‘মাতৃমা’ প্রকল্পে জোর দেওয়া হচ্ছে পুষ্টিকর খাদ্য, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিরাপদ মাতৃত্বে।

সম্প্রতি মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে ‘মাতৃমা’ মাতৃসদন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে আধুনিক প্রসূতি বিভাগ, শিশু চিকিৎসা ও জরুরি সিজারিয়ান পরিষেবার ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, এতে ভুতনি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার গর্ভবতী মায়েরা উপকৃত হবেন।

তবে সমস্যা এখনও পুরো কাটেনি। রাতের বেলা নৌকা বা অ্যাম্বুল্যান্স না মেলায় অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, নৌ-অ্যাম্বুল্যান্সের সংকট, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্য সচেতনতার ঘাটতিও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুতনি দ্বীপে মাতৃসেবা আরও উন্নত করতে স্থায়ী মাতৃসদন, ২৪ ঘণ্টার প্রসূতি পরিষেবা, নৌ-অ্যাম্বুল্যান্স চালু এবং আরও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবিরের উপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।

সব প্রতিকূলতার মাঝেও সরকারি উদ্যোগ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রচেষ্টা ভুতনি দ্বীপে আশার আলো দেখাচ্ছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে মা ও শিশুমৃত্যুর হার অনেকটাই কমানো সম্ভব বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ফেসবুকে শেয়ার করুন টুইটারে শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর